
ঘন বনের মাঝ দিয়ে হাটার সময় উপরের দিকে ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বড় বড় গাছের চূড়ার ডালপালাগুলো এমনভাবে বিকশিত যাতে তারা সহজেই একে অপরের স্পর্শ এড়িয়ে যেতে পারে। সিআরবি দিয়ে যাওয়া সময় বা হাটতে গেলে চোখে পড়বে ১০০ বছর আগে লাগানো দৃষ্টিনন্দন (রেইনট্রি) বা শিরিষ গাছগুলোর ডালপালা।
পাহাড় আর বন দেখতে চট্টগ্রাম শহরবাসীকে বাহিরে যেতে হবে না। শহরের মাঝখানে টাইগার পাসের পাশের সিআরবি এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি পাহাড়। সেখান থেকে পুরো শহর ও কর্ণফুলী নদী আর সমুদ্র দেখা যায়।
নিউ মার্কেট থেকে টাইগারপাস যেতে পলোগ্রাউন্ড মোড়ের রাস্তা দিয়ে যেতে চোখে পড়বে ডান পাশে বেশ কয়েকটি বিশাল সিঁড়ি। প্রতিটি অন্তত শত ফুট। সিঁড়ি ধরে ওপরে ওঠা যায়, আবার রাস্তা ধরেও ওঠা যায়। মূল রাস্তার ওপরে, পাহাড়ের ওপরেও রাস্তা রয়েছে। মূল রাস্তার নিচের দিকে তাকালেও দেখা যায় পলোগ্রাউন্ডের রাস্তা। ওপরের রাস্তা থেকে নিচের রাস্তাটি খুব ছোট মনে হয়। মূল রাস্তা থেকে ওপরে সারি সারি পাহাড়। নিচের রাস্তায় চলাচলের সময় পাহাড় ও বড় বড় গাছের কারণে ওপরের রাস্তা পুরোপুরি দেখা যায় না।
প্রধান রাস্তা থেকে আবার দুই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে চলে গেছে একটি উপরাস্তা। সেটি দিয়ে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের সদর দপ্তর সিআরবি (সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং) যাওয়া যায়। প্রধান সড়ক থেকে সিআরবি মাত্র কয়েক’শ গজ। রেলের গেস্ট হাউসের পেছনে কয়েকটি পাহাড়। আছে বিশাল বিশাল রেইনট্রি বা শিশির গাছ। পাহাড়ের পাদদেশে সিআরবি শিরীষতলা। সেখানে পহেলা বৈশাখ উদযাপন বিভিন্ন রকমে অনুষ্ঠান হয়ে থাকে সারাবছর, ঢল নামতো লাখো মানুষের। আর এমনিতেই বছরজুড়েই এলাকাটি জমজমাট থাকে। বিশেষ করে বিকেলে ঘুরতে আসে অনেক মানুষ। কিন্তু এখন করোনা কারণে সব বন্ধ।
সিআরবি এলাকার একাংশে সাত রাস্তার মোড়। একইসঙ্গে পাহাড় আর সমতলের যুগল যেন জায়গাটা। এখানেও আছে অসংখ্য রেইনট্রি। এগুলোর বয়সও শত বছর পেরিয়ে গেছে। রয়েছে নানা প্রজাতির অনেক গাছগাছালি। পুরো এলাকাই পাহাড়ে ঘেরা। ভোর থেকে রাত পর্য পর্যন্ত স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ নানা পেশার মানুষের আনাগোনা হয়ে থাকে এই সিআরবি এলাকাতে।
শুত্রুবার বিকালে হাঁটতে আসা এক বন্ধু বলেন, এখানে আসলে মনটি ভালো হয়ে যায়, রেইনট্রি গাছের ছায়ায় গায়ে যেন বাতাস লাগানো। এক কথায় সবুজ পরিবেশ, পাহাড় ও গাছের সঙ্গে দেখা হয় এখানে।
সিআরবি এলাকা সবার উপরে পাহাড়ের মাথা হলো কাঠের বাংলো। যেখান থেকে পুরো শহরসহ দূরে পতেঙ্গা সৈকতও পাহাড়ের চূড়া থেকে আবছাভাবেই দেখা যায়। কাঠের বাংলোর আরেক পাশে চোখে পড়বে কর্ণফুলী নদী। এক কথায় নগরীর মধ্যে চিত্ত বিনোদনের জন্য এক সাথে সবুজে ঘেরা পাহাড়। সিআরবিতে যদি দলবদ্ধ হয়ে ঘুরতে যান তাহলে শিরিষতলা কাঠের বাংলো, হাতি বাংলোয় গেলে নিশ্চিত ভালো লাগবে।













































