খাগড়াছড়িতে মাংস খেতে কুকুর শিকার!

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় শিকারের পর বেধে রাখা হয়েছে পথ কুকুর। ছবি: বেঙ্গল ডিসকাভার।

বাংলাদেশের প্রাণী কল্যাণ ও সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে চলছে পথ কুকুর শিকার ও নিধন। প্রতি মাসেই বিশেষ ফাঁদ পেতে শিকার করা হচ্ছে কুকুর। স্থানীয় কতিপয় মানুষের সহযোগিতায় প্রকাশ্যেই দিনের পর দিন চলছে কুকুর নিধনের এমন কর্মষজ্ঞ। আর এসব কুকুর পাচার হচ্ছে ভারতের মিজোরাম রাজ্যেও।

সম্প্রতি দীঘিনালার জামতলী এলাকায় দেখা যায়, বাঁশ ও দঁড়ি দিয়ে তৈরি বিশেষ ফাঁদে করা হচ্ছে কুকুর শিকারে। প্রতিদিন ১০-১৫টি পথ কুকুর ধরে নেয়া হচ্ছে বলে জানান শিকারিরা। ফাঁদে আটকানোর পর অমানবিকভাবে এক জায়গা বেধে রাখা হচ্ছে প্রাণীগুলোকে। ৫০-৬০টি কুকুর শিকারের পর চাঁদের গাড়িতে নেয়া হয় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ও লংগদু উপজেলায়।

শিকারি ইশাকা পাংখো জানান, দীঘিনালার জামতলী গ্রাম থেকে তাদের খবর দেয়া হয়েছে। কুকুর মানুষের শিশু ও হাঁস-মুরগিকে কামড়াচ্ছে, তাই এগুলোকে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। শিকার হওয়া কুকুর জবাইয়ের পর ২০০-২৫০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করা হয় বলেও জানান ইশাকা। তিনি জানান, ভারতের মিজোরামেও কুকুর পাঠানো হয়।

জামতলী গ্রামের বাসিন্দা ইউনুস মিয়া জানান, রাতে কুকুরের চিৎকারে ঘুমাতে অসুবিধা হয়। এছাড়া গৃহপালিত হাঁস-মুরগী ও ছাগল কামড়াচ্ছে। এতে করে কুকুর না থাকাই ভালো।

শিকার করা হচ্ছে পথ কুকুর।

দীঘিনালা সদরের অপু চৌধুরীর বিশ্বাস করেন কুকুর পৃথিবীর জন্য আর্শীবাদ স্বরূপ। জানান, মানুষের পাহাড়াদার ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষাকারী এমন প্রাণীর প্রতি মানুষের এমন নির্দয় আচরণে ব্যথিত তিনি।

কুকুর নিধন যাতে না করা হয় সেজন্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতও নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু আদালতের রায় ও প্রাণী কল্যাণ আইন লঙ্ঘন হলেও সেদিকে স্থানীয় প্রশাসনের নজর নেই বলে অভিযোগ করছেন প্রাণিপ্রেমীরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্য বলছে, খাগড়াছড়িতে জলাতঙ্ক টিকা দেয়া হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৭৪৪টি কুকুরকে। এ কারণে এসব কুকুর অনেকাংশে ঝুঁকিমুক্ত বলছেন চিকিৎসকেরা।

শিকারে পর নৃশংসভাবে টেনে নেয়া হচ্ছে পথ কুকুরটিকে।

প্রাণী গবেষক ও চিকিৎসক ডা. নাসির উদ্দিনের মতে, নিধন বা শিকার করে পথ কুকুর নিয়ন্ত্রণ অবৈধ ও অমানবিক। গণহারে টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কুকুরের বন্ধ্যাকরণ প্রকল্প চালুর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, পথ কুকুর মানুষের ফেলা দেয়া ও প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বর্জ্য খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার কাজ করছে। তাই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ছাড়া কোন এলাকার কুকুর নিধন করলে ওই এলাকার পরিবেশে তা বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরুল আফসার এই প্রতিবেদককে জানান, পথ কুকুর শিকারের বিষয়টি অবগত হলেও তার দপ্তরের কিছু করার নেই। এছাড়া কুকুর নিধনের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

আরো: যেভাবে বাংলাদেশ থেকে কুকুর পাচার হয় (ভিডিও)

সহযোগিতার আহ্বান...
ব্যস্ত এই পৃথিবীর প্রতিদিনকার শোরগোলে হারিয়ে যায় শত গল্প, না শোনা থেকে যায় হাজারো কথা। অগণিত বন্যপ্রজাতির ক্ষেত্রেও দৃশ্যটি ভিন্ন নয়। ছোট, বড়, বিপন্ন, বন্যজীবনের জটিলতা ও আকর্ষণীয় গল্পগুলোই আমাদের লেখকদের মূল আগ্রহ। প্রতিটি মুহুর্ত আমরা কাটাই এসবের সন্ধানে। পরিবেশ, বন্যপ্রাণী এবং বিজ্ঞান বিষয়ক সাংবাদিকতা কেবল মাত্র ভালোবাসার টানে শুরু করলেও, নিউজরুম পরিচালনায় প্রতিনিয়ত হার মেনে যায় এই আবেগও। এমন সময় প্রয়োজন হয় সহযোগিতার।

প্রাণ-প্রকৃতি নিয়ে সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর ছবি, ভিডিও এবং তথ্য তুলে ধরার ইচ্ছে নিয়ে পৃথিবীজুড়ে প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণকারী গবেষক, গবেষণা সংস্থা ও সংরক্ষণকর্মীদের সঙ্গে কাজ করছি আমরা। জনসাধারণের সামনে তুলে ধরতে চেষ্টা করি বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্রাণ-বৈচিত্র্যের তথ্যচিত্র। ওয়েবসাইট ও ম্যাগাজিন দৃষ্টিকটু বিজ্ঞাপনে যাতে ভর্তি হয়ে না থাকে, প্রতিনিয়ত আমরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এতে পাঠকের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় থাকলেও, আয়ের একটি বড় অংশ কমে যায়। সেইসঙ্গে যুক্ত হয়েছে কোভিড-১৯ কালীন অর্থনৈতিক সংকট। তাই আমাদের লেখকদের যথাযথ সম্মানীর পাশাপাশি বিজ্ঞাপনী আয়ের ক্ষতিপূরণের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহবান জানাই। এগিয়ে যেতে চাই একই উদ্দ্যোমে, সঙ্গে চাই আপনাদের সহযোগিতা।

যোগাযোগ: [email protected]