সেন্টমার্টিন্সের সাগরতলে বর্জ্য অপসারণে ডুবুরীরা

সেন্টমার্টিন্সের সাগরতল থেকে তুলে আনা বর্জ্য।

অপরিকল্পিত পর্যটন, হোটলে-মোটেল ও দ্বীপবাসীর ফেলে দেয়া বর্জ্যে প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র কোরাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন্স। প্রায়ই বিভিন্ন স্বেচ্ছ্বাসেবী সংগঠন দ্বীপ ও সৈকতে বর্জ্য অপসারণে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে এবার সরকারি উদ্যোগে শুরু হয়েছে দ্বীপটির চারপাশের জলতলদেশের অপচনশীল বর্জ্য পরিষ্কারের কার্যক্রম।

গেল ২৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সাগরের তলদেশের বর্জ্য সংগ্রহের কাজ চলবে কয়েক দফা। প্রথম দফা শেষ হয়েছে গেল ৩০ জানুয়ারি। পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বেসরকারি সংরক্ষণ সংস্থা- ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের তত্তাবধানে সেন্টমার্টিন্স দ্বীপের জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করছে ওসানিক স্কুবা ডাইভিংয়ের দল। আন্ডারওয়াটার এক্সপ্লোরার এস এম আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে আট সদস্যের ডুবুরি দল দ্বীপের জলতল রক্ষায় অভিযানটি পরিচালনা করছেন।

অভিযান পরিচালনাকারী দলের সদস্যরা জানান, দ্বীপটির চারিপাশের জলতলে মিলছে নানান অপচনশিল বর্জ্য। যা সাগরতলের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি ধ্বংস করছে দ্বীপটি রক্ষাকারী কোরালকে।

স্থানীয় দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, অসচেতনতা এবং উদাসীনতার কারণে দূষণ বেড়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে সেন্টমার্টিন্স দ্বীপ।

প্রধান ডুবুরী এস এম আতিক রহমান জানান- প্লাস্টিক, চিপসের প্যাকেট, টায়ার, পলিথিন, ছেড়া জাল ও নৌ-যানের নানা অপচনশীল বর্জ্য পানির নিচে জমা হচ্ছে। যা জলতলদেশের পরিবেশ দুষিত করার পাশাপাশি সামুদ্রিক প্রাণী ও বৈচিত্র্যকে ক্ষতি করছে- যা অপূরণীয়।

দ্বীপটি দূষণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় জনসাধারণ ও পর্যটকদের সচেতন হবার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা। পাশাপাশি দ্বীপের জীব বৈচিত্র সংরক্ষণে পরিবেশ বিভাগকে নিয়মিত সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার তাগিদ দিয়েছেন তারা।