কারাগারে হাতির দুই ঘাতক

বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুরে হত্যার শিকার বন্যহাতি। ছবি: সংগৃহীত।

বাংলাদেশে এশীয় বুনো হাতি হত্যার দায়ে প্রথমবারের মতো দুজন ঘাতককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ১৪ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার বাঁশখালী আমলি আদালতের বিচারক মো. মাইদুল ইসলাম এ নির্দেশ দেন।

আসামীরা হলেন – কামাল ও নেজাম। তাঁরা সম্পর্কে পিতা পুত্র। তারা চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের পাহাড়ি লটমনিতে একটি বুনো হাতিকে পরিকল্পিকভাবে হত্যা করে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কর্মকর্তা দক্ষিণ সফিকুল ইসলাম জানান, গেল ৩০ নভেম্বর বাঁশখালী উপজেলার লটমনিতে বিদ্যুৎ-স্পৃষ্ট করে হাতি হত্যা করেছিল ঘাতক কামাল ও নেজাম। পরে হাতিকে মাটিচাপা দেয়। এ ঘটনায় বন বিভাগের দায়ের করা মামলায় আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

গত এক মাসে সাতকানিয়া, চকরিয়া, ঈদগাহ ও বাঁশখালীতে পাঁচটি এশীয় বুনো হাতির মারা যায়। বাঁশখালীতেই ১৯ দিনের ব্যবধানে মারা যায় দুটি হাতি। যেগুলোকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন-২০১২’তে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি হাতি হত্যা করলে তিনি অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবেন। এ অপরাধ জামিন অযোগ্য। তিনি সর্বনিম্ন ২ থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটালে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।