সুন্দরবন পাহাড়া দিতে নয়া কৌশলে বনবিভাগ

সুন্দরবন, বাংলাদেশ। ছবি: বেঙ্গল ডিসকাভার

বাংলাদেশের সুন্দরবনে গাছ উজাড় ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বনের ভেতরে নজরদারি বাড়াতে নানা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে বনবিভাগ। সেইসঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছে ড্রোনের সাহায্যে বন পর্যবেক্ষণ। সম্প্রতি বনবিভাগ এই পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি লোকালয়ে বাঘের প্রবেশ ঠেকাতে সুন্দরবনের পাশে জালের বেড়া দেয়ার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।

বনবিভাগ বলছে, ইতিমধ্যে সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে এ দু’টি পদক্ষেপ নিয়ে দেশটির বনবিভাগ সুফলও পেয়েছে। তাই বাংলাদেশ বনে গাছকাটা, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরা, বন্যপ্রাণী শিকারসহ জলদস্যু ও বনদস্যুদের তৎপরতা ঠেকাতে টহলের পাশাপাশি ড্রোন দিয়ে সুন্দরবন মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা করছে বনবিভাগ। শিগগিরই ড্রোন পরিচালনায় কর্মীদের দেয়া হবে প্রশিক্ষণ।

বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়ানোর সব পদক্ষেপ নেয়া হবে। সুন্দরবনের প্রতিটি চরে একটি করে পুকুর খননের উদ্যোগও নেয়া হবে।

বন অধিদপ্তরের উপ-প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, বন্যপ্রাণি নিধন রোধ, দস্যুতা নির্মূল, অবৈধ জেলেদের শনাক্ত করে প্রতিরোধ করতে ড্রোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

একাধিক বন কর্মকর্তা জানান, প্রায়ই খাবারের খোঁজে লোকালয়ে আসে বাঘ। পরিসংখ্যান বলছে, গেলো দুই দশকে এমন ১৪টি বাঘ পিটিয়ে হত্যা করেছে সুন্দরবনের উপকূল গ্রামবাসী। এ কারণে লোকালয় সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বেড়া দেয়ার উদ্যোগও নিয়েছে বন বিভাগ।

সুন্দরবন একাডেমি খুলনার উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, “সুন্দরবন সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। ড্রোন দিয়ে সুন্দরবন অভ্যন্তরে কী হচ্ছে, না হচ্ছে সেসব বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। সুন্দরবনের ভেতরে বাঘের সুপেয় পানির ও খাদ্যের নিশ্চয়তা দেয়া যায় তাহলে বাঘ আর লোকালয়ে আসবে না। বাঘ লোকালয়ে আসছে কী না, তা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগে থেকেই জানা সম্ভব।”

বিভাগের খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মদিনুল আহসান বলেন, “নতুন একটি প্রকল্প সরকারের কাছে উপস্থাপন করেছি। যাতে সুন্দরবনের বাইরে বাঘ বেরিয়ে আসতে না পারে। সেজন্য সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় জাল স্থাপন করা হবে। এছাড়াও সুন্দরবন পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়টি থাকবে প্রকল্পে।”

সুন্দরবনের প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করেন উদ্ভিদ ও প্রাণী গবেষকরা। বনবিভাগের ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনাকে সংরক্ষণ ও অপরাধ কমাতে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।

বাংলাদেশের প্রাণীবিদ মনিরুল এইচ খান বলেন, “সুন্দরবনে যেসব প্রাণী রয়েছে তারা আমাদের সম্পদ। এরা প্রতিনিয়ত চোরাশিকারীদের হাতে ধরা পড়ছে। যা উদ্বেগজনক। সুন্দরবন রক্ষায় সরকার আন্তরিক থাকলেও বন বিভাগের লোকবল সংকট ছিল প্রথম অন্তরায়।”

“আমি প্রতিবছরই সুন্দরবন সফর করি গবেষণা কাজের জন্য। বনের প্রতিবেশ আগের থেকে খারাপের দিকে গেছে বলতে পারি। বনবিভাগের ড্রোন দিয়ে সন্দরবনের অপরাধ ও পরিবেশ রক্ষায় মনিটরিংয়ের ব্যাপারটি অভিনব,” যোগ করেন তিনি।