
বিলুপ্ত হওয়ার ৭০ বছর পর জঙ্গলে নতুন করে চিতার আবাসস্থল গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সরকারের করা একটি আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গত ২৮ জানুয়ারি এ নির্দেশ দেয় দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। তবে এজন্য সাবধানতার অবলম্বন করে বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীটি ছাড়ার পরামর্শও দেন আদালত।
কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইন এনডেঞ্জারড স্পেসিসের মতে, বর্তমান বিশ্বে চিতা একটি বিপন্ন প্রাণী। বর্তমানে ৭ হাজার ১০০টির মতো চিতা টিকে আছে। যার অধিকাংশই বিচরণ করে আফ্রিকা অঞ্চলে। ভারতের বনাঞ্চলের এশিয়ান চিতা এখন আর তেমন একটা চোখে পড়ে না। যেগুলো দেখা যায় তাও বিচরণ করে ইরানে। ধারণা করা হয়, বর্তমানে দেশটিতে ৫০টির মতো এশিয়ান চিতা রয়েছে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আদেশে বলেন, চিতা বাঘগুলো ভারতের পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পরেবে কি না তা জানতে পরীক্ষামূলকভাবে এগুলোকে ভারতের বনে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হোক। এদিকে চিতা ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান ভারতের সাবেক পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রামেশ।
সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন ছিল জাতীয় বাঘ্র্য সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের-এনসিসিএ’র একটি প্রস্তাব। সংস্থাটি আবেদন করেছিল, যাতে দেশের জঙ্গলে ফের একবার পরীক্ষামূলকভাবে আমদানি করা যায় আফ্রিকান চিতা। কারণ পঞ্চাশের দশকে দেশটির জঙ্গলে থাকা শেষ চিতাটিকে মেরে ফেলা হয়েছিল। অবশেষে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এনটিসিএ’র প্রস্তাবে সাড়া দেন।

নামিবিয়া থেকে চিতা আনার আবেদন করেছিল এনটিসিএ। সেই আবেদনের ভিত্তিতে চলছিল শুনানি। এজন্য আদালত তিন সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করে দেয়। ওই কমিটিতে রয়েছেন ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন অধিকর্তা রঞ্জিত সিং, অবসরপ্রাপ্ত ভারতের ফরেস্ট সার্ভিস অফিসার ও পরিবেশ মন্ত্রকের অফিসার। তবে অনেক দিন ধরেই সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি ঝুলে ছিল।
এর আগে প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এ প্রস্তাবের পক্ষে জেরা করার সময় আইনজীবী এস ওয়াসিম আহমেদ কাদরি জানান, এনটিসিএ যথাযথ পর্যবেক্ষণ করে তবেই আবেদন জানিয়েছে শীর্ষ আদালতে। সমীক্ষায় দেখা যায়, গোটা দেশে মোট তিনটে জায়গা চিতাদের বসবাসের জন্য আদর্শ। এরমধ্যে রয়েছে কুনো ও নওরাদেহি অভয়ারণ্য এবং রাজস্থানের শাহগড় অঞ্চলও।
এনটিসিএএর তরফে জানানো হয়, যে এই তিনটে জঙ্গলের সমস্ত সুবিধা অসুবিধা খতিয়ে দেখছে ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। সংস্থাটি আরো জানায়, ভারতকে ১৯টি চিতা দিতে আগ্রহী চিতা কনজারভেশন ফান্ড অব নামিবিয়া। সেদেশ থেকে ভারতে চিতা নিয়ে আসার খরচ ছাড়া আর কোনও টাকা তারা চায়নি।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে এই প্রস্তাব খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ওই সময় আরও বিস্তারিত গবেষণার দরকার বলে জানায় সর্বোচ্চ আদালত। ভারতের আবহাওয়ায় আফ্রিকার চিতা বাঁচতে পারবে না বলে জানান অনেক প্রাণীপ্রেমী।










































