ধুমপায়ীদের অসতর্কতা, হুমকিতে গাছ ও ঘাস!

ছবি: সংগৃহীত

ধুমপানে মানব শরীরে ক্যান্সারসহ নানা রোগ-ব্যাধি যেমন বৃদ্ধি ঘটছে, তেমনি ফেলে দেয়া সিগারেটের ফিল্ডারটিও পরিবেশের জন্য সমান ক্ষতিকর। সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে, সিগারেটের ফিল্টার প্রকৃতিতে গাছের বৃদ্ধিতেও বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সম্প্রতি এ্যাংগলিয়া রাস্কিন ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, বছরে কমপক্ষে ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন সিগারেট ফিল্টার ছড়াচ্ছে বিশ্বব্যাপী।

গবেষণায় উঠে আসে, সেলুলোজ অ্যাসিটেট ফাইবার দিয়ে তৈরি সিগারেটের ফিল্টারগুলো এক ধরনের বায়ো-প্লাস্টিক। গবেষকরা ক্যামব্রিজ শহরের আশেপাশের এলাকায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে খুঁজে পান ১২৮টি সিগারেটের ফিল্টার। শুধু ব্যবহৃত সিগারেটের ফিল্টারই নয়; অব্যবহৃতগুলোও পরিবেশের জন্য সমান ক্ষতিকর উল্লেখ করা হয় গবেষণায়।

গবেষণা ফলাফলে দেখা যায়, ফেলে দেয়া সিগারেটের ফিল্টারের প্রভাবে মাটিতে বীজের অঙ্কুরোদগমের সম্ভাবনা প্রায় ২৮ ভাগ হ্রাস পেয়েছে। ঘাসের ক্ষেত্রেও অঙ্কুরোদগমের সম্ভাবনা কমেছে ১০ শতাংশ ও দৈর্ঘ্যের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে ১৩ শতাংশ।

“এই গবেষণার প্রধান বিষয় ছিল সিগারেট থেকে গাছের গোঁড়ার কি প্রভাব সেটি দেখা। এতে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ গাছের অঙ্কুরোদগমের সফলতা এবং চারাগাছের কাণ্ডের দৈর্ঘ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ঘাস এবং গুল্মের কাণ্ডের ওজন অর্ধেক কমিয়ে দেয়,” উল্লেখ করেন প্রধান গবেষক ড্যানিয়েল গ্রিন।

তিনি বলেন, “সিগারেটের ফিল্টার যেখানে-সেখানে ফেলার অভ্যাস আছে, সেই পরিবেশের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”

গবেষণায় বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত গাছের পাতা বা ঘাস খেলে বিশেষত গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই বায়ো-প্লাস্টিক জাতীয় ফিল্টারের রাসায়নিক উপাদানগুলো গাছের প্রাথমিক পর্যায়ের বিকাশে বড় বাঁধা। এজন্য দূষণরোধে ধূমপায়ীদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হবার বিকল্প নেই বলে মনে করেন গবেষকরা।