বেঙ্গল ডিসকাভার ম্যাগাজিনের আত্মপ্রকাশ

প্রাণ-প্রকৃতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম বেঙ্গল ডিসকাভার-এর ছাপা ম্যাগাজিনের প্রথম সংখ্যা আত্মপ্রকাশ করেছে। বন্যপ্রাণী বিষয়ে এটি বাংলা- ইংরেজিতে বাংলাদেশের প্রথম গণমাধ্যম। ২০২১ সালের জানুয়ারি সংখ্যায় প্রধান্য দেয়া হয়েছে সাগর ও সাগরতলের প্রাণী সংরক্ষণকে। কাভার স্টোরিসহ মোট তিনটি সংবাদই রয়েছে সাগর বিষয়ক। তাই প্রচ্ছদ শিরোনাম করা হয়েছে- ’অতল রাজ্য’।

প্রথম সংখ্যায় বাংলাদেশের সাগরতলের জীব-বৈচিত্র্য, বঙ্গোপসাগরের মহীসোপান সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড ও সাগরতলে প্রথম আলোকচিত্রী সাংবাদিকের বিষয়ে জানতে পারবেন পাঠকেরা। পাশাপাশি রয়েছে ফুল, হাতি, বিভিন্ন প্রজাতির পাখির তথ্য ও ছবি। রয়েছে বাংলাদেশে বিচরণ করা টিয়া পরিচিতি ও পোস্টার।

পরিবেশ, প্রাণী ও বিজ্ঞান বিষয়ে ম্যাগাজিনে রয়েছে বিশেষজ্ঞদের লেখা ও ছবি। শিশু-কিশোরদের প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণে আগ্রহী করে তুলতে এবং এই বিষয়ে তাদের লেখক হিসেবে তৈরি করার প্রয়াসে বেঙ্গল ডিসকাভার ম্যাগাজিনে রয়েছে শিশু-কিশোর পাতা। যেখানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাণ-প্রকৃতি বিষয়ে নিজের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারবেন।

২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বেঙ্গল ডিসকাভার আত্মপ্রকাশ করে। বেঙ্গল ডিসকাভার লিমিটেড-এর মাল্টিমিডিয়া উদ্যোগে রয়েছে অনলাইন গণমাধ্যম, ত্রৈমাসিক পত্রিকা, ইউটিউব চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজসহ নানা কার্যক্রম।

বেঙ্গল ডিসকাভার লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মিঠু বলেন, ”প্রাণ-প্রকৃতি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম রয়েছে, কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও বাংলাদেশে ছিল না তেমন কোন উদ্যোগ।”

বাংলা-ইংরেজি ‍দু’ভাষার বেঙ্গল ডিসকাভার ম্যাগাজিনের শুভেচ্ছা মূল্য- ২৫০ টাকা, আন্তর্জাতিক মূল্য- ৩ ডলার। [email protected] অথবা fb/bengaldiscover.com0fficialpage কিংবা টেলিফোনে অর্ডারে +8801764484169, ঢাকায় ফেসবুক পেজ ’Birdwing’ এবং চট্টগ্রাম বাতিঘর থেকেও অর্ডার করতে পারবেন পাঠকরা।

তিনি উল্লেখ করেন, ”পরিবেশ বিষয়ক কয়েকটি পত্রিকা আত্মপ্রকাশ করলেও নানান সীমাবদ্ধতার কারণে ও কার্যক্রমে বৈচিত্র্যতা না থাকায় টিকে থাকতে পারেনি। তাই ভাবনায় ছিল বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণকে প্রাধান্য দিয়ে অনুসন্ধানী ও গবেষণাধর্মী প্রথম সারির গণমাধ্যম বাংলাদেশে খুব প্রয়োজন। সে থেকেই শুরু বেঙ্গল ডিসকাভার নিয়ে আমাদের যাত্রা।”

”শুরুতে অনলাইন মাধ্যমটি চালুর পর পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের বেশ সাড়া পেয়েছি। সকলেই নতুন এই কাজটিকে প্রশংসা করলেন। এটিই ছিল আমাদের অনুপ্রেরণা। এরপরই ছাপা ম্যাগাজিন বের করার পরিকল্পনা করি এবং এটিও বেশ সাড়া ফেলেছে। আমরা আশা করি- প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণে আমাদের উদ্যোগের সঙ্গে থাকবেন পাঠকেরা এবং বেঙ্গল ডিসকাভারকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করবেন,” যোগ করেন প্রধান সম্পাদক।

ম্যাগাজিন সংগ্রহ করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা রিসার্স ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া (বামে), বেঙ্গল ডিসকাভার-এর প্রধান সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মিঠু (মাঝে) এবং ঢাকা বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আবু তাহের (ডানে)।

প্রসঙ্গত, বেঙ্গল ডিসকাভার-এর সম্পাদকীয় মণ্ডলীর সঙ্গে যুক্ত আছেন বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভূটানসহ বিশ্বের স্বনামধন্য বিজ্ঞানী, প্রাণীবিদ, গবেষক, পরিবেশ-বন্যপ্রাণী বিষয়ক সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট ও আলোকচিত্রীরা। যাদের সহযোগিতায় পরিবেশ, বন্যপ্রাণী ও বিজ্ঞান বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যমূলক সংবাদ সংগ্রহ এবং পরিবেশন করে আসছে বেঙ্গল ডিসকাভার। যা প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

বেঙ্গল ডিসকাভার ম্যাগাজিন প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা রিসার্স ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, ”ঝকঝকে অফসেটে ছাপানো বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনে প্রকাশিত ম্যাগাজিনটি সংগ্রহে রাখার মত। উন্নতমানের ছবিসহ বিশ্লেষণধর্মী পপুলার আর্টিকেলগুলো যে কোন পরিবেশ সচেতন মানুষকে সহজে আকর্ষণ করবে।”

আরণ্যক ফাউন্ডেশনে সাবেক নির্বাহী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ”এ ম্যাগাজিনের প্রতিটি প্রবন্ধ তথ্যবহুল, সবাই উপভোগ করবে। সম্পাদনা খুব ভালো হয়েছে। সমুদ্রের তলদেশ নিয়ে অনেক অজানা তথ্য জানা যাবে।”